প্রিন্ট এর তারিখঃ Feb 7, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jan 11, 2026 ইং
সীমান্ত ঝুঁকিতে ভোলাগঞ্জ পর্যটন বাজার, দ্রুত স্থানান্তরের দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক, ফয়সাল আহমেদ নোমান:
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী ভোলাগঞ্জ ১০ নম্বর ঘাট এলাকায় গড়ে ওঠা পর্যটন বাজারটি পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় হলেও, এর অবস্থান নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম নিরাপত্তা ঝুঁকি। ভারতীয় সীমান্তের ‘জিরো লাইনের’ খুব কাছাকাছি বাজারটির অবস্থান হওয়ায় প্রায়ই পর্যটকরা অজান্তে সীমান্ত অতিক্রম করে ফেলছেন। এতে একদিকে যেমন বিজিবি ও স্বেচ্ছাসেবকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে, অন্যদিকে দেশের ২৪তম স্থলবন্দরের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমতাবস্থায় পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সুবিধার্থে বাজারটি দক্ষিণ পাশের বিশাল মাঠে স্থানান্তরের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভোলাগঞ্জ ১০ নম্বর ঘাট এলাকার পর্যটন বাজারটি সীমান্ত ঘেঁষা। প্রতিদিন দেশি-বিদেশি অসংখ্য পর্যটকের আনাগোনা থাকে এখানে। কিন্তু বাজারটি জিরো লাইনের একদম কাছে হওয়ায় অনেক সময় অচেনা পর্যটকরা ভুলবশত ভারতীয় সীমান্তে প্রবেশ করেন। সীমান্তে দায়িত্বরত বিজিবি সদস্য এবং পর্যটন বাজারের স্বেচ্ছাসেবকরা বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও উৎসুক পর্যটকদের নিয়ন্ত্রণ করতে বেগ পেতে হয়। এছাড়া গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থাটিও জিরো লাইনে হওয়ায় ঝুঁকি আরও বাড়ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মতে, বর্তমানে যেখানে বাজারটি অবস্থিত, সেখান থেকে দক্ষিণ দিকে একটি বিশাল মাঠ রয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সারাদেশ থেকে উদ্ধারকৃত বালু ও পাথর দিয়ে এলাকাটি ভরাটও করা হচ্ছে। বাজারটি এই মাঠে স্থানান্তর করা হলে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং গাড়ি পার্কিংয়ের সুব্যবস্থা করা সম্ভব হবে।
ভোলাগঞ্জ পর্যটন বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল এ বিষয়ে বলেন, "পর্যটকদের সুবিধা এবং সীমান্তের নিরাপত্তা বজায় রাখতে আমরা বাজারটি স্থানান্তরের পক্ষে। এতে ব্যবসায়িক পরিবেশও সুন্দর হবে।"
নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরে কোম্পানীগঞ্জ চুনাপাথর আমদানীকারক গ্রুপের সভাপতি হাজী শাহাব উদ্দিন বলেন, "বাজারটি সীমান্ত ঘেঁষা হওয়ায় অবাধে দুই দেশের নাগরিকদের মেলামেশার সুযোগ থাকে, যা মাদক চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধের ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়া অনেক সময় নারী পর্যটকরা রাতে এখানে আসেন, তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে বাজারটি দ্রুত স্থানান্তর করা প্রয়োজন।"
বাজারটি স্থলবন্দরের কার্যক্রমের জন্য হুমকি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। পর্যটকদের ভিড়ে ভারতীয় ও বাংলাদেশি নাগরিকদের আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়ে, যা সীমান্তে উত্তেজনার কারণ হতে পারে।
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ রবিন মিয়া জানান, প্রশাসন পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক। পর্যটন বাজারটি নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর ও সার্বিক উন্নয়নে প্রশাসনের একটি সুবিশাল পরিকল্পনা রয়েছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকার 2026