মেয়র থেকে মন্ত্রী—সিলেটের গর্ব এখন জাতীয় নেতৃত্বে,
সিলেটবাসীর জন্য গর্ব ও আনন্দের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। সাবেক সফল মেয়র এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৪ আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে জাতীয় রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৮৮ হাজার ৩৪৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জয়নাল আবেদীন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৯৭৫ ভোট। অর্থাৎ ১ লাখ ১৮ হাজার ৩৭১ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়—যা এই আসনে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তারই প্রতিফলন।
উপজেলা ভিত্তিক ফলাফলেও ছিল তার দৃঢ় অবস্থান। গোয়াইনঘাটে ৯৭ হাজার ৪৮৪, কোম্পানীগঞ্জে ৪৬ হাজার ৬৬৬ এবং জৈন্তাপুরে ৪৪ হাজার ১৯৬ ভোট পেয়েছেন তিনি। ১৭২টি কেন্দ্রের ফলাফলে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় ২০০৩ সালে কাউন্সিলর হিসেবে যাত্রা শুরু করেন আরিফুল হক চৌধুরী। পরবর্তীতে দুই মেয়াদে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে নগর উন্নয়ন, সড়ক সংস্কার, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন এনে তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেই কাজের স্বীকৃতিই মিলেছে এবারের নির্বাচনে।
এদিকে, নতুন মন্ত্রিসভায় তাকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আজ বিকেলেই মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে তার শপথ গ্রহণের কথা রয়েছে।
প্রবাসে কর্মরত লাখো বাংলাদেশির অধিকার রক্ষা, নিরাপদ কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ এবং বৈদেশিক রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও জোরদার করার ক্ষেত্রে তার নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন উৎসবের আমেজ। একজন সফল নগর প্রশাসক থেকে জাতীয় নীতিনির্ধারক—এই উত্তরণে সিলেটবাসীর প্রত্যাশা, তিনি যেমন শহরের উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছেন, তেমনি দেশ ও প্রবাসীদের কল্যাণেও রাখবেন কার্যকর ও দৃশ্যমান অবদান।
Imdadur Rahman